“দক্ষিণ চট্টলার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘সবুজ সংঘ’-এর ৩৭তম ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৫ উদযাপিত”

তারাবানু’ মহানগর প্রতিনিধিদক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন সবুজ সংঘ-এর ৩৭তম ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৫ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়েছে। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠন প্রতিবছর ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে আসছে, যা সংগঠনের সদস্যদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। এই আয়োজন শুধু ঈদের আনন্দকেই দ্বিগুণ করে না, বরং সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করে তোলে।

এবারের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয় সবুজ সংঘ-এর নিজস্ব ভবনে, যা চট্টগ্রামের পশ্চিম এলাহাবাদ, ২নং ওয়ার্ড, কাঞ্চনাবাদ, চন্দনাইশ এলাকায় অবস্থিত। আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যরা, উপদেষ্টা মণ্ডলী, শুভানুধ্যায়ী, এবং প্রশাসনিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা সংগঠনের দীর্ঘ চার দশকের পথচলার প্রশংসা করেন এবং সবুজ সংঘ-এর অবদানকে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে সংগঠনটি আরও বৃহৎ পরিসরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে এবং এলাকার মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকবে।

এছাড়া, অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সবুজ সংঘ-এর আয়োজনে এক প্রীতিভোজের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে আমন্ত্রিত অতিথিরা এবং সদস্যরা একসঙ্গে রাতের খাবার উপভোগ করেন। এই খাবারের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খাবারের সমাহার, যা সবাইকে আনন্দ দিয়েছে। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এই আয়োজন পুনর্মিলনীর আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে।

ঈদ পুনর্মিলনী শেষে, সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও ঐতিহ্য ধরে রেখে আরও বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা আরও বলেন যে, সংগঠনটির জন্য যতটা সম্ভব অসহায় দরিদ্রদের মাঝে অর্থনৈতিক সহায়তা, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে এলাকার মানুষ উপকৃত হয় এবং আরও অনেক নতুন সদস্য সংগঠনে যুক্ত হতে পারে।

এছাড়াও উপস্থিত অথিতিদের মধ্যে চট্টগ্রাম মিডিয়া ফোরামের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, চিত্রগ্রাহক-এডিটর “জনাব রানা বৈরাগী” বলেন- আগামী দিনে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রশাসনিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা দরকার, যেন সবুজ সংঘ আরও বড় আকারে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে। 

এই ঈদ পুনর্মিলনী ছিল শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ছিল এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মঞ্চ, যেখানে সকলের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে এবং তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন।

পাঠক প্রিয়